Loading...

Monday, April 27, 2015

বন খেকো

বন খেকো

বন উজার করতে নেমেছি
গ্রাস করি মাঠের পর মাঠ,
উদয়াস্ত রক্তস্নাত হই
ক্ষুধা কমেনা।
তিব্র আর্তনাদে প্রাণীকুল
পিঁপড়েরাও পালাতে পারেনা।
মানবতা অন্ধ ভিখিরি
সিংহের ছায়ায় আমি হেসে মরি।
আমি দগ্ধ করি বন
হামাস আমাকে ছুঁতেও পারেনা।

Friday, April 24, 2015

অপেক্ষায়

অপেক্ষায়


একটা নিদারুণ বোবা কান্না শুনতে পাই
অস্তিত্বের বেদনা বুঝি তার নাম।
আমার দেহে আর্তনাদ করে হেমগ্লোবিন
আর তার পাশে হেঁটে যায় উত্তেজিত হৃদস্পন্দন।
আগুনের লেলিহান শিখায় চেয়ে দেখি
নিজেকে ছায়া-ছবির মত মনে হয়।
ভেতরে ভেতরে গুমরে কোরাস গায় দ্বেষ
তোমার খোলস বদলের অপেক্ষায় বহুদিন বাংলাদেশ।

Tuesday, April 21, 2015

শিল্পের আড্ডায়

শিল্পের আড্ডায়


শিল্পের তালে তালে  সর্বজনিন
করি না বিভাজন, সদা মুক্তমন।
রাজনীতি বুঝিনা, বুঝিনা লোকাচার
চলি আপন মনে
চিনিনা ধনী কিম্বা হরিজন।

মোহনামুখে ছুটে চলি নদীর সাথে
নদীও জাত চেনেনা, চেনেনা গোলাপের সুঘ্রান
খন্ডিত নগরীতে কবিগান করি
নগরী বহমান-আলীশান-পেরেশান-মৃতপ্রায়
ভাতও বিকায় সেথায় রাজনীতির দরে...

শীত-গ্রীষ্ম ভেদাভেদ ভুলে
নগর যন্ত্রের ক্যাঁচক্যাঁচে
আড্ডায় মাতি এই ফুল সড়কে
তোমাদের সাথে।

আমরা তোমাদের লোক, তোমাদের পথে
একটু খোলস বদল, একটু আলাদা।

Monday, April 20, 2015

কাকের মৃত্যুর পর

কাকের মৃত্যুর পর


একটি কাক ভূপাতিত হ'ল। নেতা কাকের উপস্থিতিতে হয়ে গেল শোক ও প্রতিবাদ সভা। অতঃপর সারা শহর জুড়ে বিক্ষোভের ক্যাচক্যাচানি। মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত। থেমে যায় কাকেরা। আবার তাঁরা ময়লা খায়-সাবান চুরি করে যাপিত জীবনে। ভাগাড়ে পড়ে থাকে মৃত কাকটির লাশ।

শুধু কাক সঙ্গিনী মনে রাখে - সে কি হারিয়েছে।

Wednesday, April 1, 2015

ক্ষমা করো

উড়ে গেছে একশটি কবিতার পাতা
আফসোস নেই, যাক সেটা।
তাদের ভাগ্য নিয়ে ফিরে গেছে
দূরপাল্লার কোনো শ্টেশনে
টুকরো কাগজের ঠোঙ্গা হয়ে।
আমাকে ভুল বুঝো না
যুবা উড়ু মন স্থির ছিল না।
ক্ষমা করো হে আমার কবিতার পাতা
তোমাকে যত্নে রাখতে পারিনি।
যেমন যত্নে রাখতে পারিনি
চুল্লাল্লিশ বছরের স্বাধীনতা।

Tuesday, March 31, 2015

পাহাড়ে বৃষ্টি

পাহাড়ে হটাৎ বৃষ্টি
ভারাক্রান্ত আকাশ।
রিনিঝিনি শব্দে চলে
চলাচলের ছলাৎ ছল।
পাহাড় গড়িয়ে নামে জল
ভেজায় রাস্তা-
         গিরিপথ-
              মেঠোপথ-
                    পাহড়ী নদীর ঢল।
সূর্য থাকে আড়ালে
আলো আঁধারীর খেলার ছলে।
মেঘেরা সাঁতরায়ে যায়
রুদ্ররুপে আকাশের গায়।
মোহভুলে চিগমি আজ
গায় মেঘমল্লার গান,
নীলচে পাহাড়ে লাগে
নববর্ষার প্রাণ।


তিনি কোথায়

জ্ঞান হারানোর আগে তাঁকে আবছা দেখেছিলাম। বস্তিতে আগুন লাগার সময় দেখিনি। যুদ্ধের ময়দানেও দেখিনি। চড়া সুদের দাদনীর ঋণ পুনরুদ্ধার দল যখন জমিলাকে ভিটে ছাড়া করল। তখনও তিনি অনুপস্থিত। খুব মায়াবী দেখতে নাকি। পার্কের আড্ডায়, চায়ের কাপে, রাজনীতির ভাষণে, মানুষের মুখে মুখে তাঁর নাম। এখন এ-লোকে কদাচিৎ দেখা যায়। 

খুব কষ্ট করে, যত্ন নিয়ে ভালবেসে মানুষ তাঁর নাম রেখেছিল 'মানবতা'।